বিশ্বে সয়াবিন আমদানিতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম। তবে দেশটির সাম্প্রতিক আমদানি এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ছাড়পত্রের জটিলতা এবং ব্রাজিল থেকে সরবরাহ বিলম্ব আমদানি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে দেশটি মোট ৬০ লাখ ৮০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ১ শতাংশ কম এবং ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ব্যবসায়ীর মতে, সাধারণত বন্দর থেকে কোনো সরবরাহ প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় পৌঁছতে ৭-১০ দিন সময় প্রয়োজন হয়। বর্তমানে তা বেড়ে ২০-২৫ দিন হচ্ছে।
এক ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষক জানিয়েছেন, এপ্রিল থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্ব চীনের বেশ কয়েকটি ভোজ্যতেল প্রস্তুত কারখানা উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি কিছু পশুখাদ্য কারখানার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে পণ্য কিনতে হয়েছে।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস আরো জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত চীন মোট ২ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ কম। কিছু চীনা বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীর ধারণা, মে ও জুনে সয়াবিন আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এ সময় মাসভিত্তিক আমদানি হতে পারে ১ কোটি ১০ লাখ টন।
তবে ব্রাজিলের শস্য রফতানিকারক সমিতি আনেক গত বুধবার জানায়, মে মাসে মোট সয়াবিন রফতানি ১ কোটি ২৬ লাখ টনে নেমে আসতে পারে।
এদিকে সরবরাহ বিলম্বের ব্যাপারে চীন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। চীনের ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে এপ্রিলের শেষে সয়াবিনের দাম কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্রাজিল থেকে সয়াবিনের আরো সরবরাহের আশায় দাম কমে যায়।
শানডংভিত্তিক সাবলাইম চায়না ইনফরমেশনের বিশ্লেষক ওয়াং ওয়েনশেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন ক্রয় অনবরত কমছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সাপ্তাহিক তথ্যানুসারে, ১ মে পর্যন্ত ২০২৪-২৫ বিপণন বছরে চীনের কাছে তাদের নিট সয়াবিন বিক্রি শূন্য ছিল।